
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দিয়ে হাসিমুখে মাঠ ছাড়ছিলেন হাসান মাহমুদ। ঠিক সেই মুহূর্তে তাকে থামান অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। চলতি সিরিজে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বে থাকা গিলক্রিস্ট বাংলাদেশি পেসারকে অভিনন্দন জানান এবং তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের অনুভূতি জানতে চান।
জবাবে হাসান জানান, লাইন ও লেংথ ঠিক রেখে ধারাবাহিকভাবে বোলিং করাই তার সাফল্যের মূল কারণ। শুধু সাফল্য নয়, এই ম্যাচে নিজের বোলিংয়ের শিখরেও পৌঁছে গেছেন তিনি।
এর আগে টেস্টের এক ইনিংসে দুবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব ছিল হাসানের। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে এক ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এমন দাপুটে বোলিংয়ের শুরুটা হয় প্রথম সেশনেই। ক্রিকেট বিশ্বকে অনেকটা অবাক করে দিয়ে প্রথম সেশনেই স্বাগতিকদের ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটি ৪৫ রান পর্যন্ত টিকে থাকলেও এরপর হাসানের আঘাতে ভেঙে যায় সেই জুটি।
জেক ওয়েদারাল্ডকে ফেরানোর পর ট্রাভিস হেডকেও সাজঘরের পথ দেখান হাসান। ফলে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তবে স্টিভেন স্মিথের ভাগ্য সহায় ছিল। মাত্র ২ রানে থাকা অবস্থায় তানজিদ তামিমের হাতে জীবন পান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ৭১ রান করেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
এরপর মারনাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আরও স্বস্তি এনে দেন ইবাদত হোসেন। মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে ক্যামেরন গ্রিনকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন তাসকিন আহমেদ।
প্রথম সেশনে চার উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় সেশনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে ৫৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের সেই জুটি বেশি দূর এগোতে দেননি ইবাদত। ক্যারিকে বোল্ড করে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি তুলে নেন তিনি।
এরপর একে একে বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কও সাজঘরে ফেরেন। ফলে স্মিথ একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার রান বাড়ানোর মতো সঙ্গী পাচ্ছিলেন না।
একপর্যায়ে ধৈর্য হারিয়ে বড় শট খেলতে যান স্মিথ। তাতেই বিপদ ডেকে আনেন তিনি। ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তার ব্যাট থেকে আসে ৭১ রান।
শেষ সেশনের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার বাকি দুই উইকেট তুলে নেন হাসান মাহমুদ। নাথান লায়নকে আউট করার মধ্য দিয়ে ইনিংসের সমাপ্তি টানেন তিনি। ফলে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২০০ রানের আগেই থেমে যায়।
বাংলাদেশের আলোচিত পেসার নাহিদ রানা চোটের কারণে এই সিরিজে নেই। তবে তার অনুপস্থিতি একদমই বুঝতে দেননি হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। তিন পেসারের সম্মিলিত আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত ভেঙে পড়ে।
হাসান ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন। ইবাদত ৩৯ রান খরচ করে পেয়েছেন ২ উইকেট। তাসকিনের শিকারও ২ উইকেট, তবে তিনি দিয়েছেন ৫৫ রান।
ফলে ডারউইন টেস্টের শুরুতেই দুর্দান্ত অবস্থানে চলে গেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে আটকে দিয়ে এখন ব্যাট হাতে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের লক্ষ্য বাংলাদেশের।
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৫৩ ওভারে ১৯৮ অলআউট
স্টিভেন স্মিথ: ৭১
জেক ওয়েদারাল্ড: ২৩
ট্রাভিস হেড: ২২
বাংলাদেশের বোলিং:
হাসান মাহমুদ: ৬/৫৫
ইবাদত হোসেন: ২/৩৯
তাসকিন আহমেদ: ২/৫৫